December 3, 2020

তিন দিনের কূর্গ (Coorg) ভ্রমণ

সামাজিক মিডিয়া শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsAppEmailLinkedIn
২০২০ নভেম্বের মাসের মাঝামাঝি, কথায় কথায় কূর্গ (Coorg) এর কথা উঠলো রাতে খাওয়ার সময়। প্রায় ৮ মাস শহরের বাইরে পা রাখিনি আমরা। ঘর, আপিস, আর বাজার এই আমাদের গণ্ডী। সৃষ্টিকর্তা নিজ খেয়ালেই সমগ্র মানবজাতির উপরে অভিমান করে অদৃশ্য লক্ষণ রেখা টেনে দিয়েছে প্রত্যেকের চারপাশে। কোভিড১৯ অতিমারি আমাদের সকলের জীবনধারা কমবেশি একটু অন্য দিকে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

রাতের খাওয়া শেষ হতে হতে আমারা মন স্থির করে ফেললাম দীপাবলির ছুটিতেই কূর্গ (Coorg) ট্যুর। কর্ণাটক ভাষা অর্থাৎ কানারা তে কোদাগু/কুডাগু আর ইংলিশে কূর্গ (Coorg). Google ঘেঁটে যতটুকু বুঝলাম কূর্গ (Coorg) একটি জেলার নাম, আর এই জেলার সদর শহর হল মাদিকেরী / মাডিকেরী / madikeri. বেঙ্গালুরু থেকে কূর্গ প্রায় ২৭০ কিলোমিটার রাস্তা। পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় অবস্থিত কূর্গ জেলা। আঁকাবাঁকা রাস্তা, কফি বাগান, উঁচু-নিচু পাহাড় আর ছোটবড় ঝর্ণা নিয়ে বেশ একটা সুন্দর পরিবেশ। চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ। হাতে ৩ দিনের ছুটি, শনিবার-রবিবার-সোমবার। স্থির হল আমারা (আমি আর আমার ভাই) বাইকে যাবো বেঙ্গালুরু থেকে কূর্গ। হিসাব করে দেখলাম বাইকে যাওয়াই সস্তা হবে আমাদের দুজনের জন্য। বাস ভাড়া আর ওখানে পৌঁছে গাড়ি ভাড়া দুজনের জন্য একটু বেশীই হয়ে যাবে, তাই বাইক।

পেট্রোল: কমবেশি ২০০০/-
হোটেল ভাড়া: দুদিন ১৬৪০/- দুজনের
তিন দিনের খাওয়া খরচা: ৫০০ x ৩ = ১৫০০/- মাথা পিছু

শনিবার সকাল সকাল অ্যালার্মের শব্দে তড়াক করে বিছানায় উঠে বসলাম, এক চোখ খুলে ঘড়িতে দেখলাম তখন সকাল ৫টা। অলস মস্তিস্ক হিসাবনিকাশ করে বললো,

“আর একটু ঘুমিয়ে নে, অনেক সময়”

দ্বিতীয়বার ঘুম থেকে উঠলাম সকাল ৬ টায়। ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলাম রাতে, তাই সকালে উঠে মুখ ধুয়ে ব্যাগ ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়লাম কূর্গ (Coorg) এর উদ্দেশ্যে। জীবনে এই প্রথম ২৭০ কিলোমিটার বাইকে যাবো। এলাহি ভরসায় শুরু হল আমাদের যাত্রা।

প্রথমে শহর থেকে বেরিয়ে Doddakammanahalli, তার পর NICE Ring Road ধরে সোজা Mysore Road. এখানে একটা কথা বলে রাখি, NICE Ring Road এ বাইকের Toll লাগে না। Mysore Road ধরে সোজা আমারা পৌঁছে গেলাম Mandya, এখানে আমার সকালের জলখাবার সারলাম ইডলি আর ধোসা দিয়ে। একটু বিশ্রাম নিয়ে এবং বাইক কে বিশ্রাম দিয়ে আবার শুরু করলাম Bhroom Bhroom !! পথে মাঝে মাঝে ৫/১০ মিনিট করে একটু দাড়িয়ে নিয়েছি বারে বারে। এক টানা বাইকে বসে থাকা যায় না। রাস্তা খুবিই সুন্দর, কথাও কোন খারাপ রাস্তা নেই। পথে তেমন কোন আর উল্লেখ যোগ্য ঘটনা ঘটেনি। আমাদের ঘর বুকিং আগে থেকে করা ছিলো। কূর্গ (Coorg) এ যদি সম্ভব হয় হোটেলে থাকবেন না। এখানে প্রচুর Home Stay অর্থাৎ অন্যের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা আছে। হোটেল গুলি সব প্রায় শহরের জনবহুল এলাকায়, আর Home Stay গুলি পাহাড়ের কোলে, এই জন্যই হোটেলে না থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। হোটেলের মতই সব সুযোগ সুবিধা পাবেন প্রায় সব Home Stay তে। আমারা ছিলাম Eshwari inn Homestay তে। আমরা বুকিং করিয়েছিলাম makemytrip.com থেকে। প্রায় ২টো নাগাদ আমার পৌঁছলাম আমাদের Home Stay তে। মালিক অতি সজ্জন ব্যক্তি, মধ্য বয়সী এক ভদ্রলোক, নাম ‘লোহিত’। লোহিত বাবু আমাদের স্বাগতম জানালেন এবং Covid19 এর সব রকম guideline মেনে আমাদের ঘর দিলেন। স্নান করে একটু সতেজ হয়ে আমারা পৌনে ৪ টে বেরিয়ে পড়লাম প্রথম দিনের schedule follow করতে। এখানে বলে রাখি, কূর্গে ৩ দিন কোথায় কোথায় ঘুরবো প্লান করে দিয়েছিন meghbristi.com blog এর লেখিকা, সুপর্ণা ঘোষ। ভ্রমণ প্লান সমন্ধে প্রচুর অভিজ্ঞতা ওর।

প্রথম দিন

১) Abbey Falls (অ্যাবি ফলস)
২) Madikeri Fort (মাদিকেরি ফোর্ট)
৩) Raja’s Seat (রাজাস সিট)
৪) Omkareshwara temple (ওমকারেশ্বর মন্দির)

Abbey Falls (অ্যাবি ফলস)
বাইক ছুটিয়ে আবার শহর থেকে বেরিয়ে এলাম। মাদিকেরী যাওয়ার পথেই Abbey Falls (অ্যাবি ফলস) পড়ে। আমাদের সঙ্গে ব্যাগপত্র ছিল তাই আর যাওয়ার পথে অ্যাবি ফলস দেখার ইচ্ছে হয়নি। তবে আপনারা চাইলে শহরে ঢোকার আগেই এটি দেখে নিতে পারেন। বাইক পারকিং করে বেশ কিছুটা সিঁড়ি ভেঙে নিচে পৌঁছে অ্যাবি ফলস দেখতে পেলাম। সিঁড়ির প্রথম ধাপ থেকেই আপনি শুনতে পাবেন ঝর্ণার শো-শো শব্দ। শহর থেকে প্রায় ৮/১০ কিলোমিটার আগেই এই অ্যাবি ফলস। ঝর্ণার খুব কাছে গিয়ে আমরা ঠাণ্ডা জলের ছিটা অনুভব করবেন, এতে আমাদের সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেলো। কিছু ছবি তুললাম নতুন DSLR দিয়ে,। পেশায় আমি ফটোগ্রাফার নই, আমার ওঠানো ছবি অতি সাধারণ, তার কয়েটা ছবি এখানে দিলাম।

 

Madikeri Fort (মাদিকেরি ফোর্ট)
Abbey Falls (অ্যাবি ফলস) থেকে আবার বাইক হাকিয়ে শহরের মধ্যে প্রবেশ করলাম। এবার আমাদের গন্তব্য মাদিকেরি ফোর্ট বা দুর্গ। মাদিকেরি দুর্গটি Mercara Fort নামেও পরিচিত, এটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন মুদদুরাজ ১৭ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে। দুর্গের অভ্যন্তরে তিনি একটি প্রাসাদও তৈরি করেছিলেন। শেষে এটি টিপু সুলতান গ্রানাইট পাথর দিয়ে পুনর্নির্মাণ এবং পুনর্গঠন করেছিলেন। পরে এই জায়গার নামকরণ জাফরাবাদ করা হয়েছিলো। সত্যি বলতে বর্তমানে এখানে শুধু দুর্গের বাইরের অংশ দর্শকদের জন্য খোলা থাকে, অন্তত আমার তাই দেখলাম। আমরা এখানে পৌঁছে বিশেষ কোন উত্তেজনা বা উৎসাহ পাইনি। এদিক ওদিক একটু ঘুরে দেখলাম, কয়েকটি ছবি তুললাম। *এখানে কোন প্রবেশমূল্য নেই।

 

Raja’s Seat (রাজাস সিট)
আমাদের তৃতীয় গন্তব্য এবার Raja’s Seat (রাজাস সিট)। এটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। Raja’s Seat অর্থ “রাজাদের আসন”। জায়গাটিকে রাজার আসন বলা হয় কারণ এটি সেই জায়গা যেখানে কুরগের রাজারা এখানে বসে চারপাশের সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। এটি সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের দেখার জন্য তৈরি করা হয়েছিলো। কিন্তু আমাদের ভাগ্যে দুটোর একটিও দেখার সৌভাগ্য হয়নি। আমরা পৌঁছেছিলাম বিকালে, তখন সূর্য অস্ত যাওয়া ঢের দেরি। এখানে প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা।

 

Omkareshwara temple (ওমকারেশ্বর মন্দির)
প্রথম দিনের চতুর্থ ও শেষ আকর্ষণ, Omkareshwara temple (ওমকারেশ্বর মন্দির)। ওমকারেশ্বর মন্দিরটি কুর্গের মাদিকেরিতে অবস্থিত শিবের অন্যতম একটি মন্দির। এটি মাদিকেরি শহরের কেন্দ্রস্থলে মাদিকেরি দুর্গের নিকটবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। লিঙ্গ রাজেন্দ্র ১৮২০ সালে এই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন। এখানে আমরা যখন পৌঁছলাম তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। মন্দির দর্শন করে প্রথম দিনের ভ্রমণ শেষ করলাম।

ক্লান্ত শরীর, এবার কিছু একটা খেতেই হবে। অনেক খুজে আর গুগোল রিভিউ পড়ে আমারা মনস্থির করলাম Hotel Rainbow. গ্রিল চিকেন আর হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি গোগ্রাসে ভক্ষণ করে আমরা ফিরে এলাম আমাদের Home Stay তে।

দ্বিতীয় দিন

১) Dubare Elephant camp – Coorg (দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প)
২) Chiklihole Reservoir / Dam – Coorg
৩) Nisargadhama – Coorg (নিসর্গধাম)
৪) Namdroling Monastery Golden Temple ( Temporarily closed due to COVID 19)
৫) Mallalli Waterfalls

Dubare Elephant camp – Coorg (দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প)
দ্বিতীয় দিন আমাদের কাছে খুবিই গুরুত্বপূর্ণ, এই একটা গোটা দিন আমাদের হাতে আছে এবং যতটা সম্ভব এটিকে সম্পূর্ণ ভাবে আমাদের কে ব্যাবহার করতে হবে। সকাল ৭ টায় বেরিয়ে পড়লাম Dubare Elephant camp এর উদ্দেশ্যে। যাওয়ার পথে স্নিগ্ধ সকাল শরীর ও মন কে তরতাজা করে তুলেছিল। যেতে যেতে পথে কিছু ছুবি না তুলে পারলাম না।

Dubare Elephant camp পৌঁছলাম সকাল ৮ টায়। ক্যাম্প খুললো সকাল ১০ টার পরে। রাস্তার ধার দিয়ে কুলকুল করে বয়ে গেছে জলস্রোত। আমরা পা ভিজিয়ে ছবি তুললাম, কিছুক্ষণ জলে লম্পঝম্প করলাম। বন দফতরের নৌকা করে ছোট নদীর অপারে যেতে হবে। Dubare Elephant camp ওই পারে। এখানে আপনি হাতির স্নান দেখতে পাবেন। হাতির এই ক্যাম্পে ঘুরতে আসা পর্যটকরা হাতিদের স্নান করা-সহ বিভিন্ন দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড দেখতে পারেন। দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প হাতি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, এটি কর্ণাটক সরকার পরিচালনা করে। ক্যাম্পটি কুশলনগরের কাছাকাছি অবস্থিত।

Chiklihole Reservoir / Dam – Coorg (চিকলি হোল ড্যাম)
দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় গন্তব্য চিকলি হোল ড্যাম। বাইক ছুটিয়ে পৌঁছলাম চিকলি হোল ড্যাম। আমরাই দিনের প্রথম পর্যটক। এখানে পর্যটক শব্দটি ব্যাবহার করা ঠিক হল কি জানি না, আপনাদের ভুল মনে হলে কমেন্ট করে জানাবেন। মাদিকেরি এবং কুশলনগরের মধ্যে অবস্থিত এই চিকলি হোল ড্যাম বা জলাধার। যারা কূর্গ (Coorg) ঘুরতে আসবেন তাদের দেখার জন্য উপযুক্ত স্থান এই চিকলি হোল ড্যাম। এটি কুশলনগর এবং মাদিকেরি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। জলাধার নিকটতম শহর হ’ল নঞ্জারায়পট্টনা। কাবেরী নদীর উপ-নদীগুলির একটিতে চিকলি হোল ড্যাম তৈরি করা হয়েছে। যদিও জায়গাটি কূর্গের অন্যান্য পর্যটন স্পটের মতো জনপ্রিয় নয় তবে এটি nature lover দর্শনার্থীদের জন্য কিছু ভাল মুহুর্ত হতে পারে। ভিড় থেকে দূরে কিছু নির্জনতা এবং গোপনীয়তার সন্ধানকারীদের জন্য এটি উত্তম একটি জায়গা।

Nisargadhama – Coorg (নিসর্গধাম)
দিনের তৃতীয় চমক Nisargadhama – Coorg (নিসর্গধাম)। এটি কাবেরী নদীর উপর একটি ছোট দ্বীপ বলা যেতে পারে। এটি সকাল ৯ টা থেকে খুলে দেওয়া হয় দর্শনার্থীদের জন্য। এখানে বাঁশ, টিক ও চন্দন গাছের জঙ্গল খুব সুন্দর করে সাজানো রয়েছে। এছাড়াও এখানে হরিণ, হাতি সংরক্ষিত রয়েছে। জল বেশি থাকলে বিশেষত বর্ষাকালে কাবেরী নদীতে রাফটিংও করানো হয়। ধুলন্ত ব্রিজ হয়ে আমরা প্রবেশ করলাম মূল দ্বীপে। ঘুরতে ঘুরতে হরিণ দেখলাম খুব কাছ থেকে। তারপর কানে এলো জলস্রোতের আওয়াজ। আওয়াজ অনুসরণ করে পৌঁছে দেখি পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলেছে কাবেরী নদীর উপশাখা। এখানেও আমরা জলে নেমে মজা করলাম আর ছবি তুললাম।

Namdroling Monastery Golden Temple ( Temporarily closed)
যদিও আমাদের ঘর মালিক বলে দিয়েছিলেন যে নামদ্রোলিং মনাস্ট্রি বন্ধ আছে, তবুও এলাম একবার চোখের দেখা দেখতে। শুনছি ভারতে বৌদ্ধ মঠের ১০ টির মধ্যে এটি একটি। এই মঠটি তিব্বত এর বাইরে দ্বিতীয় সবথেকে বড় তিব্বতি আশ্রয়স্থল। এখানকার সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো বুদ্ধের বিশাল স্বর্ণের মূর্তি। আমাদের দুর্ভাগ্য যে এটির দর্শন করতে আমারা পারলাম না। প্রধান ফটকের বাইরে দাড়িয়ে ছবি তুলে, দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়ে নিলাম।

Mallalli Waterfalls – Coorg (মাল্লাআল্লি ঝর্ণা)
দিনের শেষ গন্তব্য Mallalli Waterfalls – Coorg (মাল্লাআল্লি ঝর্ণা) এবং কফি বাগান। এটি কুর্গ জেলার সোমওয়ারপেট তালুকের বেততাদাহল্লি গ্রাম পঞ্চায়েতের পুষ্পগিরি পার্বত্য রেঞ্জের পাদদেশে অবস্থিত। কুমারধারা নদী যখন প্রায় ২০০ ফুট উপর থেকে প্রবাহিত হয় তখন এই জলপ্রপাতটি তৈরি হয়। মাল্লাআল্লি ঝর্ণা সোমওয়ারপেট থেকে ২৫ কিলোমিটার এবং কুশলনগর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটির আশেপাশের যে কোনও শহর থেকে বাইক বা গাড়ি ভাড়া নেওয়া যায় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে পৌঁছানো যায়। সোমওয়ারপেট বা সোম্বরপেট থেকে হানচিনল্লী পর্যন্ত বাস রয়েছে যা ঝর্ণার নিকটতম গ্রাম। জলপ্রপাত দেখার জন্য সেরা সময়টি বর্ষাকাল। চারপাশের সবুজ রংও এই সময়ের সেরা। জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসে উপযুক্ত সময় এখানে আসার। Abbey Falls (অ্যাবি ফলস) থেকে অনেক বড় এই ঝর্ণা। এখান থেকে আমারা যখন ফেরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, তখন সন্ধ্যা ৬ টা, তবুও দিনের আলো ছিল। এখান থেকে আমাদের গন্তব্য আবার আমাদের Home Stay. ঘরে ঢোকার আগে আবার আমার রাতের খাবার খেলাম Hotel Rainbow তে। মেনু, তান্দুরি চিকেন আর হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি।

তৃতীয় দিন

Tala Kaveri Temple – Coorg (তালকাবেরি মন্দির)
তৃতীয় দিন হাতে সময় খুব অল্প। আমাদের চেকআউট সময় সকাল ১১ টার আগে। এদিন সকাল ৬ টায় আমরা বেরিয়ে পড়লাম। গন্তব্য Tala Kaveri Temple – Coorg (তালাকাবেরি মন্দির)। ভাগমন্দলা থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ে অবস্থিত তালা কাবেরি মন্দির। কর্ণাটক রাজ্যের পশ্চিমঘাটের তালাকাবেরী থেকেই এই নদীর উৎপত্তি। ভারতের অন্যতম প্রধান কাবেরী নদী। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী এই নদী অতি পবিত্র। এই মন্দিরে রাস্তায় যাওয়ার সময় পড়বে ত্রিবেণী সঙ্গম (Triveni Sangam ) এবং  ভাগন্দেশ্বর মন্দির (Bhagandeswara Temple). এটি কাভেরি, কান্নিকে এবং পৌরাণিক কাহিনী সুজ্যোতি নদীর তিনটি নদীর সঙ্গম। এই পবিত্র স্থানের পরিবর্তে একাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে চোল বংশের রাজা দ্বারা ভগবানেশ্বর মন্দির নির্মিত হয়েছিল। ৫ মিনিটের একটা ছোট বিশ্রাম নিয়ে পৌঁছলাম তালাকাবেরি মন্দির। অল্প সময়ের মধ্যে আমার মন্দির দেখে ছবি তুলেই তড়িঘড়ি ফিরে এলাম। Home Stay তে পৌঁছলাম তখন ঘড়ি কাটায় কাটায় ১১ টা। ব্যাগ পত্র রাতেই গুছিয়ে রেখেছিলাম। দেরি না করে আমার বাড়ির মালিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে। আমাদের সামনে এখন ২৬০ কিলোমিটার।

পূর্ববর্তী পোস্ট
পরবর্তী পোস্ট
সামাজিক মিডিয়া শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsAppEmailLinkedIn
আলোচনায় যোগ দিন

সঞ্জয় হুমানিয়া

Avatar

আর্কাইভ