কন্নড় ভাষায় ‘থোটি’ (ಟ್ಯಾಂಕ್) মানে হ্রদ এবং ‘কল্লু’ অর্থ পাথর।

পাথরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তাই এই জলপ্রপাতের নাম হয়েছে thottikallu falls বা থোট্টীকাল্লু জলপ্রপাত। সংক্ষেপে এই নাম এসে দাঁড়িয়েছে tk falls . এই ঝর্ণাকে  ‘স্বর্ণমুখী’ জলপ্রপাতও বলা হয়। অনেকে একে আবার ইংলিশে অনুবাদ করে বলে ‘Golden-Faced’.

থোট্টীকাল্লু জলপ্রপাত ( thottikallu falls ) কাগলিপুরা কনকপুরা প্রধান সড়ক থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে এবং ব্যানারঘাটা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্বে। শান্ত গ্রাম এবং শীতল মৃদু বাতাসে ঘেরা, সাপ্তাহিক এক দিনের ছুটি কাটানোর দুর্দান্ত জায়গা। আমরা গন্তব্য স্থলে পৌঁছে প্রথমেই বেশ কিছু দূরে গাড়ি parking করে দিলাম। Parking থেকে ৭০০ মিটারের মধ্যেই থোট্টীকাল্লু জলপ্রপাত (thottikallu falls / tk falls )। অনেকেই parking এ গাড়ি না রেখে আর একটু এগিয়ে একেবারে মুন্নেশ্বর মন্দিরের ( muneshwara swamy temple ) কাছে রাস্তার এক পাশে গাড়ি ও বাইক park করে রাখে। এখান থেকেই থোট্টীকাল্লু জলপ্রপাতের ( thottikallu waterfalls ) আওয়াজ শোনা যায়। আমার পায়েপায়ে এগিয়ে চললাম।

প্রথমেই মুন্নেশ্বর মন্দির ( muneshwara temple ), এবং এরা সামনে থেকেই ধাপে ধাপে উপরে সিঁড়ি উঠে গিয়েছে। এখানে কোন প্রবেশ মূল্য নেই, বা কোন রকম কোন খরচা নেই। এখানে ছোট ঢালাই রাস্তা আছে যার উপর দিয়ে আমাদের জলপ্রপাতে পৌঁছানোর জন্য আর ২০০ মিটার হাঁটতে হয়েছে। আমরা যখন প্রায় ১০০ মিটার এগিয়ে এলাম তখন জলপ্রপাত দেখতে পেলাম। প্রায় ১০০ ফুট পাথরের উপর থেকে ঝর্ণা আছড়ে পড়ছে পাথরের উপরে। কাছে পৌঁছে দেখলাম অনেক দর্শনার্থীরা এই জলপ্রপাতের নিচে স্নান ও জল ক্রিয়া উপভোগ করছে। আমি ভেতো বাঙালি, একটু জলে ভিজলে বা ঠাণ্ডা গরম হলেই সর্দিকাশিতে ভুগি। আমার সাহসে কুলিয়ে উঠলো না স্নান করতে বা জলে ভিজতে।

জাদুঘর, প্রাসাদ, মন্দির এবং স্মৃতিস্তম্ভ দেখে দেখে আপনি বিরক্ত? প্রকৃতির কোলে একটু বিশ্রাম নিতে চান? তাহলে থোটিকল্লু জলপ্রপাত ( thottikallu falls ) আপনার ভালো লাগবে। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় পালামৌ প্রবন্ধে লিখেছেন,

“বঙ্গবাসীর কেবল মাঠ দেখা অভ্যাস, মৃত্তিকার সামান্য স্তুপ দেখিলেই তাহাদের আনন্দ, অতএব সেই ক্ষুদ্র পাহাড়গুলি দেখিয়া যে তৎকালে আমার যথেষ্ট আনন্দ হইবে ইহার আর আশ্চর্য কি?”

এখানেও আমার এই কথাটি উপলব্ধি করলাম।

ভাবছেন কিভাবে এই জলপ্রপাত পৌঁছাবেন?

আপনি বনশঙ্করী বাস স্টেশন থেকে নল্লাক্কানা ডোডির বাস নিতে পারেন। একবার আপনি নল্লাক্কানা ডোডি বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে হাঁটার দূরত্বে জলপ্রপাত। আপনি যদি বাসে ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন, তাহলে আপনি একটি ক্যাব বা নিজের গাড়ি বা বাইক নিয়েও এই স্থানে পৌঁছাতে পারেন। আমি প্রথমে আমার ঘর থেকে JP nagar পউছলাম, এখানে শুভ্রব্রত দা থাকেন। এখান থেকে আমাদের যাত্রা শুরু করেছিলাম। রুট ম্যাপ (thottikallu falls route map) নিচে দিয়ে দিলাম।

এই জলপ্রপাত দেখার সেরা সময়

থোট্টীকাল্লু জলপ্রপাত দেখার সেরা সময় ( thottikallu falls timings ) অক্টোবর থেকে মার্চ। এই সময়ে, আপনি ঝর্ণার  প্রবাহকে পুরোপুরি দেখতে পাবেন। ভাল অভিজ্ঞতার জন্য, অক্টোবর এবং মার্চের মধ্যে এই জায়গাটি দেখার জন্য আপনারা প্লান করতে পারেন। থোট্টীকাল্লু জলপ্রপাত ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। তবুও সকাল ৬ঃ০০টা থেকে সন্ধ্যা ৬ঃ০০ টার মধ্যে জলপ্রপাত দেখার জন্য উপযুক্ত সময়। প্রথমেই বলেছি এখানে দেখার জন্য কোন প্রবেশ মূল্য নেই। গাড়ি পার্কিং চার্জ দিতে হয় না। যদি আপনি আপনার নিজের গাড়ির নিয়ে এই জায়গা দেখতে আসেন তো গাড়ি নিজের দায়িত্তে রাস্তার পাসে বা ফাঁকা যায়গায় রাখতে পারেন। আর সব থেকে প্রয়োজনীয় যেটা, অবশ্যই সঙ্গে খাবার নিয়ে আসবেন। কাছাকাছির মধ্যে কোন রকম হোটেল বা রেস্তোরা নেই। সম্ভব হলে সঙ্গে জল অবশ্যই নিয়ে আসবেন।

সঞ্জয় হুমানিয়া | বেঙ্গালুরু, ভারত
২২সে অগাস্ট ২০২১

★ আমার লেখায় অজস্র বানান ভুল থেকে যায়, পাঠকের চোখে পড়লে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ★

Thottikallu Falls | থোট্টীকাল্লু জলপ্রপাত

Facebook Comments Box