অভিযোগ করা বন্ধ করুন এবং মন খুলে বাঁচতে শুরু করুন

If you Like it,Share it

জীবন সুন্দর, এটা উপভোগ করার জন্য। সবকিছুতেই অভিযোগ করে নিজের জীবনকে নরক করে তুলবেন না। জীবনের প্রতি অভিযোগ করা বন্ধ করুন এবং সাধারণ জীবনযাপন শুরু করুন! যে কোন পরিস্থিতিতে অভিযোগ করা এবং অসন্তোষ দেখানো negative চিন্তা ভাবনার দিকেই টেনে নিয়ে যাবে আপনাকে। আমাদের অভিযোগের অভ্যাস কিন্তু সবকিছুর মধ্যে দোষ খুঁজে পায়। আমরা এই অভ্যাসের বশে থাকলে পত্নী, মা-বাবা, শিশু, পরিবেশ, পরিস্থিতি, এমন কি ঈশ্বরের প্রতিও দোষ খুজতে শুরু করবো।

আমরা যে সময় নিঃশ্বাস নিচ্ছি, হয়তো অন্য একজন মানুষ তার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে, তাই আমাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে সরল জীবনযাপন করা উচিৎ।

একটি সুখী, শান্তিপূর্ণ ও আরাধ্য জীবনের জন্য, মস্তিষ্কের negative চিন্তা বন্ধ করতে হবে এবং সুস্থ চিন্তা ভাবনা শুরু করতে হবে। যখনই আমরা অভিযোগ ছেড়ে দেই, তখন আমাদের মনে মহাবিশ্বের মত একটি প্রকাণ্ড যায়গা তৈরি হয়, যেখানে শুধু সৎ ভাব ও ভালোবাসা জন্মাতে শুরু করে। প্রকৃতি আরো কাছে টেনে নেয়, কারন আমারা সকলেই এই সুন্দর প্রকৃতিরই অংশ।

ব্যর্থতার পিছনে কারণগুলি বিশ্লেষণ করার পরিবর্তে আমরা কেবল অন্যদের কে ব্যর্থতার কারন হিসাবে ভাবতে থাকি। শুধু মাত্র নিজেকে সন্তুষ্ট করার জন্য অন্যকে দোষারোপ করি। সত্যি বলতে অনেক সময় অন্যদের প্রতি ঈর্ষা করে জীবন আর পরিস্থিতির প্রতি অভিযোগ করি। আবার কখনও কখনও মানুষ কেবল মাত্র মনোযোগ পেতে অভিযোগ করে। এমন মানুষ কিন্তু সমাজে খুবই একা। এই ধরনের আচরণর ফলে negative চিন্তা ভরা করে, মনকে অস্থির করে যা আমাদের সামাজিক সম্পর্ককে ক্ষতি করে।

অভিযোগ অন্যদের তুলনায় আমাদের নিজেকেই বেশি আঘাত করে। কারণ দিনের শেষে আমরা নিজের আচরণের জন্য খারাপ বোধ করবোই। মানুষ সব সময় আকর্ষণীয়, সুখী সম্পর্ক খোঁজে। প্রতিবার যখন আপনি অভিযোগ করেন তখন এটি বিষণ্ণতা এবং বিরক্তি ছড়িয়ে পড়ে সম্পর্কের মধ্যে। সবশেষে আস্তে আস্তে সেই সম্পর্কের মাঝে চলে আসে অনেকটাই ফাঁকা জায়গা, নিজেদের অজান্তেই।

আমাদের কি করা উচিৎ !

১) আত্ম অহংকার ত্যাগ করতে হবে। অন্যদের প্রতি বিনীত এবং শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আমাদের কে অন্যদের কাছ থেকে সম্মান চাইতে হবে না, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি আমাদের কে প্রদান করবে।

২) সবসময় আমিই সঠিক, এটা ভাবা বন্ধ করতে হবে। আমার ব্যর্থতার জন্য অন্যদের দোষারোপ বন্ধ করতে হবে। আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে যেটা সঠিক, কিন্ত অন্যের দৃষ্টিকোণ থেকে ভুলও তো হতে পারে। এই পৃথিবীতে কিছুই “ঠিক” বা “ভুল” নয়, সবকিছুতেই ত্রুটি খোঁজা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে।

৩) নিজেকে তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হবে এবং নিজের আচরণ বিশ্লেষণ করতে হবে:
ক – আমি কতবার আজ অভিযোগ করেছি?
খ – অভিযোগ না করলে কি সারা দিন খুব খারাপ যেত?
গ – অভিযোগ করে কি পরিবর্ত করেছি?
নিজের আচরণ বিশ্লেষণ করার সময় (এই প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করে), আমরা নিজেরাই বুঝতে পারবো যে অভিযোগ এড়িয়েও চলা বা চলতে পারা যায়।

৪) মনে রাখবেন, সময় ফিরে আসে না। আমরা যে সময় নষ্ট করেছি আমরা তা কনদিন কিনতে পারবো না, সময় কে সম্মান দিতে হবে। জীবন শুধু অভিযোগ এবং দোষ খোঁজার জন্য নয়। আজকের দিনটি উপভোগ করুন, কারন আগামীকাল কেউ দেখেনি।

উপসংহার:  সেই সব বিষয় ও সম্পর্কে উদ্বেগ বা চিন্তা বন্ধ করুন, যে সব নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। জীবন সুন্দর, এটা নষ্ট করবেন না। খুশি থাকার চেষ্টা করুন।

আমার লেখায় মাঝে মধ্যেই অনেক বানান ভুল থেকে যায়। অনুরোধ করবো একটু মানিয়ে গুছিয়ে নিতে। সম্ভব হয়ে বানান ভুল ধরিয়ে দেবেন কমেন্ট করে।
If you Like it,Share it


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Sanjay Humania

Everyone's life is a story, it starts when you're born and continues until the end.

Facebook Page

Follow @Social Media
Recent Notes

ফেসবুকের অভিনন্দন পত্র

সত্যি নয়, অভিনয়

তোমার আমার স্বপ্ন

আনফ্রেন্ড অভিযান

মগজ ধোলাই

আমার জন্ম তারিখ রহস্য

দূর্গাপূজা, জল বেলুন আর পিস্তল

অভিযোগ করা বন্ধ করুন এবং মন খুলে বাঁচতে শুরু করুন

Notes Archives
Visitors Statistics
Sanjay Humania’s Notebook