সরস্বতী বিদ্যেবতী, তোমায় দিলাম খোলা চিঠি
সরস্বতী বিদ্যেবতী, তোমায় দিলাম খোলা চিঠি একটু দয়া করো মাগো, বুদ্ধি যেন হয়। এসব কথা লিখছি তোমায় নালিশ করে নয়।।
অনেক বছর আগের কথা, আমি তখন ছাত্র ছিলাম। আমার schooling হয়েছিল বারাসতের নামীদামী একটি ইস্কুলে। Monthly tuition fees নেওয়ার পরেও যদি কোনো অনুষ্ঠান হতো স্কুলে তখনও তার জন্য আলাদা করে চাঁদা চাইতো। একটি ছোট্ট ঘটনা আমার মনে গভীর ভাবে দাগ কেটেছিলো। ইস্কুলে স্বরসতী পূজা হবে, ক্লাসে ক্লাসে কাগজে নাম লিখে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। আমিও বাড়িতে বললাম টাকা দিতে, বাড়ি থেকে টাকা দিয়েও দিয়েছিলো। কিন্তু সে টাকা আমার ব্যাগ থেকে না পকেট থেকে হারিয়ে যায়। মহা সমস্যায় পড়লাম আমি। বাড়িতে এ কথা বললে বকা খেতে হবে। এদিকে ইস্কুলে রোজ তাগাদা করছে। আমি প্রতিদিন next day – next day বলে কাটিয়ে দিতে লাগলাম। পূজোর আগের দিন আর ইস্কুলে গেলাম না, টাকা দেওয়ার ভয়ে। ভাবলাম পূজোর দিনও যাবো না। কিন্তু বিধাতা তো উপর থেকে মিটিমিটি হাসছে। বাড়িতে প্রস্তাব দিলাম যে সরস্বতী পূজোর দিন স্কুলে যাবো না। প্রস্তাব নাকোজ হয়ে গেলো। বাড়িতে থেকে বললো,
” পূজোর জন্য টাকা দিয়েছিস, কেন যাবি না?”
সরস্বতী পূজোর দিন সকাল সকাল স্নান করিয়ে আমাকে ইস্কুলে পাঠানো হলো। ইচ্ছা না থাকলেও আমাকে বাধ্য হয়ে ইস্কুলে যেতে হলো। ইস্কুলে গিয়ে শুরু হলো চোর পুলিশের খেলা। যে miss আমাদের ক্লাসে টাকা নিয়েছিলেন নাম লিখে, তিনি আমার কাছে এখন পুলিশ, আর আমি চোর। অতি সাবধানে আমি স্কুলের ভিতরে ঘোরাফেরা করতে শুরু করলাম। কখনো কখনো মনোজ কুমারের মতো ঘনঘন মুখে হাত দিতে লাগলাম। পূজো হলো, অঞ্জলী হলো, তখনো আমি ধরা পড়িনি। সব শেষে খিচুড়ি খাওয়ার পালা। সারা স্কুল খিচুড়ির সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। আমার মনে শুরু হলো এক অন্য বিশ্লেষণ। আমি তো টাকা দেয়নি, আমার কি খিচুড়ি খাওয়া উচিৎ? এদিকে খাওয়া শুরু হলো। সকাল থেকে কিছু খাইনি, খিদেও পেয়েছে। কিন্তু কি করবো? আমি তো মনস্থির করতে পারছি না। অবশেষে খিদের কাছে আমার লজ্জা হার মানলো। আমি পায়ে পায়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লাম। টেবিল পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই আমার মাথায় বজ্রাঘাত হলো। খিচুড়ি পরিবেশনে অন্য miss দের সঙ্গে তিনিও আছেন, যিনি আজ আমার কাছে পুলিশ। আমার কান গরম হয়ে গেলো, গোল গোল হাটু কাঁপতে লাগলো। এই বুঝি কম্পমান দুই হাঁটু একে অপরের সাথে ঠোকাঠুকি লেগে শব্দ শুরু হয়। অতি কষ্টে নিজেকে সামলাতে আপ্রাণ চেষ্টা করলাম। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম , মুখে ভয়ের ছাপ। আমাকে দেখে সহপাঠী জিজ্ঞাসা করলো আমার কি শরীর খারাপ লাগছে? আমি চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়িয়ে হা বললাম। সহপাঠী আমাকে একটু চোখে মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে আসতে বললো। আমার মাথায় নতুন এক ফন্দি এলো। আমি তখনই সময় ব্যয় না করে ছুটলাম জলের নলের দিকে। এক দৌড়ে ইস্কুলের এক পাশে জলের নলের কাছে পৌঁছে একটু হাঁফ ছেড়ে স্বাভাবিক হলাম। আমার হাতে এখন অনেক সময়। পেটের খিদে তখন আর নেই। প্রায় ঘন্টা খানেক আমি এখানেই ছিলাম, আকাশ পাতাল কি সব ভাবছিলাম। একে একে অন্য ছাত্ররা যখন হাত ধুতে এলো, আমিও হাত ধোয়ার অভিনয় করলাম। মুখে পরম তৃপ্তির ছাপ। তারপর ভিড়ের মধ্যে নিজেকে লুকিয়ে নিয়ে ইস্কুল থেকে বাড়ি ফিরলাম। এ ঘটনা কোনোদিন কেউ জানতে পারেনি, আর আমিও কাউকে বলিনি। আজ আর বলতে লজ্জা নেই। 😊 আপনারা জেনে গেলেন। আশা করি, কাউকে বলবেন না! ★ আমার লেখায় অজস্র বানান ভুল থেকে যায়, পাঠকের চোখে পড়লে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ★
Play Video
Facebook Comments Box