সামাজিক মিডিয়া শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsAppEmailLinkedIn

গতকাল work from home ছিলো। সকাল ৮ টায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে এক চোখ খুলে ল্যাপটপে login, তার পর টানা ১ঘন্টা আবার চাঁদর মুড়ি দিয়ে ঘুম। ল্যাপটপের volume high রেখে home theater এর সাথে Bluetooth connect করে বিছানার পাশে চেয়ারের রাখা আছে। mail এলেই টুং করে আওয়াজ হবে এবং সেটা home theater এ হবে। সকাল ৯ টার আগে তেমন টুং শব্দ খুব একটা আসে না।

৯টায় আবার দ্বিতীয়বার এলার্ম বাজার পরে হাতে ব্রাশ নিয়ে লাল রঙের মাজন লাগিয়ে দাঁত মাজা। তার পরে mail এর inbox check করা। আমার দিন এই ভাবেই শুরু হয়। ভাইয়ের আপিস ১০টায়, ওর অপিসের জন্য lunch এ পরোটা বানিই ১০টার আগে। সঙ্গে ২টো পরোটা বেশিই করি নিজের জন্য।

ঠিক পনে ১০টায় official chat বক্সে “going for breakfast” লিখে ভাইকে আপিসে পৌঁছে দিয়ে আসি। এর পর সারাদিন ঘরে একা। কখনো অপিসের কাজ, কখনো ফেসবুক, আবার কখনো চাঁদর মুড়ি দিয়ে বিছানায়। টুং শব্দ হলেই উঠে বসি, আবার কাজ শুরু। কাজ শেষে আবার সেই একই activity.

দুপুরে lunch এর পর কিছু একটা খাওয়ার অভ্যাস হয়েছে এই কয়েক সপ্তাহ। নিয়ম করে সর্দি কাশির ওষুধ খাচ্ছিলাম আর সেটাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ওষুধ শেষ, তবুও কিছু খেতে চাইছে মন। ফ্রিজের উপরে এক কৌটো কাঁচা চিনে বাদাম রাখা আছে। মাঝে মাঝে এই বাদাম বাটা দিয়ে বেগুন রান্না করি আমি। মন বললো, চিনে বাদাম ভাজা খাবো। ১০টা না ৫টা না, আমার একটাই মন। তার কথা ফেলতে পারি না!!

গ্যাস জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে দিলাম, কড়াইয়ে লবণ গরম করে চিনে বাদাম ভাজলাম। গরম ভাজা বাদাম সঙ্গেসঙ্গে খেতে ভালো লাগে না, একটু ঠান্ডা করে খেতে হয়। এক বাটি বাদাম ভাজা ল্যাপটপের পাসো। কাঁচি দিয়ে চৌকো সাদা কাগজ কেটে তাতে বিটলবন নিলাম। একটা করে চিনে বাদাম আঙ্গুল দিয়ে বাটি থেকে তুলে, উপরের বাদামি রঙের খোসা ছাড়িয়ে, বাদাম একটু জিভে ছুঁইয়ে নিয়ে তার পর লবণ ছুঁইয়ে আবার মুখে। আহ!! কি এ অসাধারণ স্বাদ। আশা করি সবাই বুঝে গিয়েছেন, কেন আগে জিভে ছুঁইয়ে তারপর লবণ ছোয়াই।

যাই হোক, আমি কাজ করছি আর ফাঁকেফাঁকে বাদাম চেটে লবণ লাগিয়ে বাদাম খাচ্ছি। খাচ্ছি তো খাচ্ছি, খাচ্ছি তো খাচ্ছি। ক্রমে ক্রমে বাতি ভরে উঠছে বাদামি বাদামের খোসায়। বাদাম কমে আসছে আর খোসা বাটি ভরে উঠছে। চৌকির উপরে ল্যাপটপ, সামনে বসে আমি, এক পা চৌকি থেকে ঝুলছে আর দুলছে। সমানে হাত চলছে কিবোর্ডে আর বাদামের বাটিতে। হঠাৎ হাত ফসকে একটি বাদাম পড়লো পায়ের কাছে রাখা পাপোষের উপরে।

সব বন্ধ! পা দুলুনি আর কাজ দুটোই। কয়েক সেকেন্ড আমি আর পাপোষের উপরে পড়ে থাকা বাদাম একে অপরের দিকে চেয়ে রইলাম। কি করি, ঠিক বুঝতে পারছি না। মুহূর্তের মধ্যে মস্তিষ্ক আমার কানে কানে ফিস ফিস করে বলল,

“ও একটা বাদামের মায়া করিস না। চার পাশে যা ভাইরাস টাইরাস ঘোরাফেরা করছে, ওটা আর তুলে মুখে দিস না, বাটিতে তো আছে এখনো!!”

ঠিক!! আমি মাথা নেড়ে সাই দিলাম। একটু ঝুকে পড়ে বাম হাত দিয়ে বাদামটি কে তুলে বিছানার এক কোনে রাখালাম। সেনিটাইযারের বোতল থেকে কয়েক ফোটা সেনিটাইযার হাতে নিয়ে হাত কে ভাইরাস মুক্ত করলাম। কি জানি বাবা, এই পাপোষে ওই সব থাকতেই পারে।

বেলা চারটে নাগাদ আমার কাজ ও বাদাম দুটোই শেষ হয়ে গেলো। ল্যাপটপ বন্ধ করে, বিছানা থেকে তুলে টেবিলে রাখলাম। মনে করে বিছানার কোন থেকে সেই একটি বাদাম কে তুলে খোসা ভর্তি বাটিতে ফেললাম। বিছানা ঝেড়ে, উঠে গিয়ে বাটি রান্না ঘরের dish wash sink এর পাসে রেখে হাত মুখ ধুয়ে শুয়ে পড়লাম। লম্বা দিবানিদ্রা। স্বপ্নে কি সব হিজিবিজি দেখলাম, মনে নেই।

ঘুম থেকে উঠলাম সন্ধ্যা ৭টায়। এই অবেলার ঘুম বড্ড খারাপ। কেমন যেন মন খারাপ করে দেয়, মাথা ভোঁ হয়ে থাকে। প্রায় আমি সন্ধ্যা বেলায় ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারি না, এটা সকাল না সন্ধ্যা। বেশ কয়েক মিনিট সময় লাগে এই ঘোর কাটাতে। ঢুলু ঢুলু চোখে আর টলমল পায়ে চোখে মুখে একটু জল দিলে একটু ভালো লাগে। চৌকি থেকে উঠে dish wash sink এর সামনে পৌঁছে খুব করে চোখে মুখে জলের ঝাঁপটা দিলাম। হাত দিয়ে মুখের জল মুছে বেশ ফ্রেশ লাগছিলো। দেখলাম dish wash sink এর পাসে বাটিতে বাদামের খোসার মাঝে একটা গোটা বাদাম। আমি খপ করে তুলে মুখে পুরে দিলাম। মুখে দেওয়া মাত্র আমার মাথায় ঝনাৎ করে যেন বাজ পড়লো। এ তো সেই পাপোষে পড়া বাদাম!! সর্বনাশ!! থুহ!!! করে ফেলে দিলাম dish wash sink এ। সব কথা মনে পড়ে গেলো। ঠোঁটের কোনে নিজের উপরে নিজের বিদ্রুপ হাসি। আমি আবার হাতে ব্রাশ নিয়ে লাল রঙের মাজন লাগিয়ে দাঁত মাজালাম। আয়নার সামনে গিয়ে মুখ মুছতে মুছতে নিজে নিজেই বললাম,

ও ওরকম মাঝে মাঝে হয়, ও কিছু না।

পূর্ববর্তী পোস্ট
সামাজিক মিডিয়া শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsAppEmailLinkedIn
আলোচনায় যোগ দিন

সঞ্জয় হুমানিয়া

Avatar

আর্কাইভ