জীবন খাতার প্রতি পাতায় যতই লেখ হিসাব নিকাষ কিছুই রবে না
ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

#অসহায়
মানুষযে কখন অসহায় হয়ে পড়বে কেউই জানে না। ধরুন বৃষ্টি শুরু হলো হঠাৎ করে, আপনার কাছে ছাতা আছে! আপনি ছাতা খুললেন! অমনি দেখলেন ছাতার কাপড় খুলে গিয়েছে বা ছাতার সিক ভাঙা। অন্য সকলেই অপনার আসেপাশে সুন্দর ছাতা খুলে কি সুন্দর ভাবে দাঁড়িয়ে আছে আর আপনি ভাঙা ছাতা হাতে নিয়ে অন্যদের দিকে ফ্যাল ফ্যাল চোখে তাকিয়ে আছেন। এই সময় নিজেকে কতটা অসহায় লাগে, কেবল সেটা ভুক্তভুগিই বুঝবে।

#অসহায়
কথায়আছে, মানুষের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আজ পর্যন্ত এমন ঘটনা কোথাও ঘটতে দেখলাম না। বেল তলায় ন্যাড়ার মাথায় বেল পড়তেও দেখেছি, কিন্তু আকাশ ভেঙে পড়তে দেখিনি। গতকাল রাতের আপিস থেকে বেরিয়ে ফাঁকা বাসে উঠে প্রতিদিনের মতোই মন ভালো হয়ে গেলো। বাসের প্রত্যেকটি জানালা সিট ভর্তি আর সব কয়টি পাশের সিট ফাঁকা। বাসে উঠেই সামনে যে সিটটি থাকে সেটি বয়ষ্কদের জন্য। এই সিটের দিকে আমি ভুলেও তাকাই না, এটি আমি ভবিষৎ এর জন্য রেখেছি। কালরাতে বাসে উঠে ভাবলাম, এত দিন তো রাতে ফিরছি, কিন্তু কোনো বুড়ো কে তো দেখলাম না রাতে। এই ভেবেই আর কিছু না ভেবে আমি বসে পড়লাম বুড়োদের সিটে। ফ্লাই ওভারের শুরুতেই বাস ভর্তি হয়ে গেলো, পা রাখার যায়গা ছিল না। হঠাৎ আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। একটি বয়ষ্ক বৃদ্ধ কাঁপতে কাঁপতে বাসে উঠলো। সকলে যারা সিট পায়নি দাঁড়িয়ে ছিল, তারা সকলেই ঘৃণা ভরা চোখ আমার দিকে তাকিয়ে। তাদের চোখে মুখে একটা পরিহাসের ছাপ। আমি অসহায়ের মতো সিট ছেড়ে পাশে দাঁড়িয়ে পড়লাম রড ধরে। বৃদ্ধ কাঁপতে কাঁপতে সিটে বসা মাত্রই ম্যাজিকর মত যুবকের রূপান্তরিত হয়ে গেলো। দেখতে দেখতে পকেট থেকে iphone বার করে ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো সেই বৃদ্ধ রূপী যুবক।

#অসহায়
অসহায়কি জিনিস, তুমি কি বুঝবে রমেশ বাবু! বর্ণপরিচয়ের গোপাল আর রাখালকেই দেখে গেলো সবাই, মাধব কে আর কেউ চিনলো না। গোপাল তো IIT থেকে পাশ করে MNC তে JOB করছে, আর এদিকে রাখাল সিন্ডিকেটের ব্যবসা করে এখন রাঘববোয়াল। গোপাল আর রাখাল কে লোকে আগেও চিনতো, এখনো চেনে। মাঝখানে মাধব বেচারা না পড়াশুনায় ভালো ছিলো, না ছিল দুষ্টমীতে। মাধব শৈশব হারিয়েছে মধ্যবিত্ত সংসারের চাপে, কৈশোর তলিয়ে গিয়েছে উপদেশ আর আদর্শের ভারে, যৌবন তো আসেইনি অর্থঅভাবে। আজ বার্ধক্যে পা রেখে খেলার মাঠে বা টিভির পর্দায় ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা দেখে একটা অসহায় ভাব তাকে গ্রাস করে। এ জীবনে মাধবের আর কোনো খেলাই খেলা হলো না। বাড়ীর কড়া আদেশ ছিলো, “ও সব খেলা করার অনেক সময় পাবি জীবনে, এখন একটু কষ্ট করে নে বাবু”। মাধবের হাতে আজ সময় খুব অল্প, মাধবের তো আর খেলার সময় এলোই না।

ভালো লাগলে শেয়ার করবেন
Avatar
Written by
সঞ্জয় হুমানিয়া
Join the discussion

Please note

This is a widgetized sidebar area and you can place any widget here, as you would with the classic WordPress sidebar.