আমি দুটি লালবাগ চিনি। একটি হলো মুর্শিদাবাদের লালবাগ, অন্যটি বেঙ্গালুরুর লালবাগ। বেঙ্গালুরুর লালবাগ বোটানিক্যাল গার্ডেন ১৭৬০ সালে হায়দার আলী কাজ শুরু করে এবং তার পুত্র টিপু সুলতান সেই কাজ সম্পন্ন করেন। বাগানটিতে ফরাসি, পার্সিয়ান এবং আফগান বংশোদ্ভূত বিরল গাছপালা রয়েছে এবং বর্তমানে এটি একটি সরকারি বোটানিক্যাল গার্ডেনের মর্যাদা পেয়েছে। ৩০০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি পুরানো শিলা বা পাথর এখানে রাখা আছে এবং এটি একটি প্রধান পর্যটক আকর্ষণ।

এই বোটানিক্যাল গার্ডেনটি ফটোগ্রাফারদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল মাত্র কয়েক বছর আগে পর্যন্ত। তার পর সরকার বাহাদুর এই উদ্যানে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করা বন্ধ করেছেন, কি কারনে তা আমার জানা নেই। এছাড়াও বিখ্যাত গ্লাস হাউস (কাঁচের ঘর) আছে, যেখানে প্রতি বছর একটি বার্ষিক ফুলের প্রদর্শনী অনুস্থান অনুষ্ঠিত হয়। টিপু সুলতান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী করেছিলেন বিভিন্ন গাছ-গাছালি এবং সাজিয়ে তুলেছিলেন আজকের এই লালবাগ বোটানিক্যাল গার্ডেনে কে। এখানে এখনো বিশ্বের অন্যতম বিরল গাছপালা রয়েছে। গাছের পাশাপাশি, এই বাগানে বিভিন্ন ধরনের পাখির আনাগোনা। যেমন ময়না, ছোট থেকে মাঝারি আকারের তোতাপাখি, কাক, সমুদ্র-ঈগল, বক, সারস এবং বেগুনি মুরগির।

বছরের পর বছর ধরে লালবাগে অনেক প্রজাতির বিরল গাছপালা এবং গুল্ম আনা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই টিপু সুলতান নিজেই আনিয়েছিলেন। বিখ্যাত গ্লাস হাউসের তৈরি হয় ১৮৯৮ সালে। এই বাগানে অনেক কিছুই দেখার রয়েছে। যেমন ফ্লোরাল ঘড়ি, গাছের ফসিল যা ২০ মিলিয়ন বছরের পুরানো, গ্লাস হাউস যা কাঁচের তৈরি, হরিণ পার্ক, পাখির বড় খাঁচা বা পক্ষিশালা, লালবাগ হাউস, লালবাগ হ্রদ ও কৃত্রিম ঝর্ণা, জাদুঘর যেখানে বিভিন্ন ধরণের প্রত্নবস্তু রয়েছে, কবুতর হাউস যেখানে কবুতর বা পায়রা আছে।

বেঙ্গালুরুর লালবাগ জানুয়ারি এবং আগস্টে ফ্লাওয়ার শো বা ফুলের প্রদশনী চলাকালীন দেখার সেরা সময়। লালবাগ শহরের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত, এখানে বাস এবং অটোরিকশায় করে সহজেই পৌঁছানো যায়। নিজস্ব গাড়ি ও মোটরসাইকেল রাখার সুব্যবস্থাও আছে এখানে।

সঞ্জয় হুমানিয়া | বেঙ্গালুরু, ভারত
১২ই সেপ্টেম্বর ২০২১

★ আমার লেখায় অজস্র বানান ভুল থেকে যায়, পাঠকের চোখে পড়লে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ★

Timings : 6:00 AM – 7:00 PM
Entry Fee : Adults: INR 25 (After 8:00 AM) Children below 12 Years: Free

Facebook Comments Box