জীবন খাতার প্রতি পাতায় যতই লেখ হিসাব নিকাষ কিছুই রবে না

কোলকাতার মিষ্টি ভাবটা কমে যাচ্ছে!

ভালো লাগলে শেয়ার করবেন

কর্মসূত্রে ভারতের দক্ষিণের শহর গুলিতে বাঙালির সংখ্যা নেহাত কম নয়। আমি নিজে এবং আমার ফ্যাট এর প্রায় 70% লোকজনই বাঙালি এবং কর্মসূত্রে বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরে। স্বভাবতই বাড়ি গেলে সেখানকার টুকিটাকি যেমন মিষ্টি, পাপর, বড়ি, ঘি এসমস্ত বাড়ি থেকে বেঁধে দেওয়ায় হয়। আমার ঠিক নিচের ফ্লাটে থাকে সৌভিক। MBA করে ICICI ব্যাংক এ কর্মরত। কলকাতার যাদবপুরে বাড়ি তাই এবার বাড়ি থেকে ফেরার সময় কোলকাতা থেকে মিষ্টি এনেছে আমাদের জন্য।

মিষ্টি খেতে খেতে আড্ডা শুরু, একথায় সেকথায় ভাগাড়ের মাংস উঠে এলো। বেশ লম্বা চওড়া আলোচনা আর হাসাহাসি করতে করতে মেট্রো কান্ড, আর শেষমেষ হেদুয়ার বাস কান্ড হয়ে আমরা গম্ভীর হয়ে গেলাম। কয়েক মিনিট নিস্তব্ধতার পর সৌভিক আক্ষেপের সুরে বলে উঠলো, – “কোলকাতার মানুষদের মধ্যে দিনদিন মিষ্টি ভাবটা কমে যাচ্ছে। সকলেই যেন ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে”। সব ধৈর্য যেন L238 নম্বর বাসের কন্ডাক্টর আর ড্রাইভারের কাছে জমা পড়েছে। বারাসাত থেকে হাওড়া বা হাওড়া থেকে বারাসাত, আপনি এই বাসে উঠলেই বুঝতে পারবেন যে ড্রাইভার আর কোন্ডাক্টর কত ধৈর্যশীল। একটার পর একটা সিগন্যাল খাচ্ছে, যাত্রী ১৪ গুষ্টি উদ্ধার করে দিচ্ছে, তবু কোনো হেলদোল নেই, যেই কি সেই, ধীর স্থির।

রাস্তার হকার থেকে বাজারের সব্জিয়ালা, দোকান থেকে সরকারি আপিস, সকলেই যেন কেমন খিটখিটে, সকলের মেজাজ চটকে আছে। কিছু বললেই তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ বেঁধে যায় যায়। কই আগে তো এমন ছিল না? কি এমন হয়েছে কোলকাতার? দিন দিন সবাই এমন নিরস হয়ে পড়ছে কেন? এক শ্রেণীর মানুষ আরো দেখা যায়, যারা এই লেখা পড়েই কমেন্ট করবে, “সরকার কি করেছে? এই করেনি সেই করেনি, কিংবা এই করেছে সেই করেছে”। আমার প্রশ্ন হলো আমরা কি করছি? আমাদের মধ্যে যে নম্র ভাব ছিলো, সেটা দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে কেন? যে কথা আজ আমরা চোখ রাঙিয়ে বা গায়ে হাত তুলে বলছি, সেটা তো মিষ্টি ভাবে, ভদ্র ভাবে বলা যায় বা করা যায়!

সৌভিকের একটা ছোট্ট ঘটনা দিয়ে শেষ করবো। কোনো এক লোকাল ট্রেনে, ভিড় ট্রেনে কিছু মানুষ তাস পেটায়। হঠাৎ এরই মাঝে একজন বিশেষ এক হাতের কায়দায় সিগারেট ধরায়। আপনি সিগারেট দেখতে পাবেন না, তবে গন্ধ পাবেন। ম্যাজিকের ভেলকির মতো সেই চার বা পাঁচ জন সে সিগারেটে টান দেয়, আপনি গন্ধ পাবেন কিন্তু দেখতে পাবেন না। ভিড় ট্রেনে বসে বসে চলতে থাকে তাস আর ধূমপান। মাথা হেট করে হাতে লুকিয়ে থাকা সিগারেটে টান দিয়েই জানলা দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ার অভিনয় করবে। চলন্ত ট্রেনের জানলা দিয়ে কি বাতাস বাইরে যায়? যায় না। আপনি বা আমি বা সৌভিক খুবই বিরক্ত হয়ে এর প্রতিবাদ করলো। উত্তরে এখন বলা হচ্ছে – ” বাসে ট্রেনে মেট্রোতে তোমরা যখন চুমু খাও, জাপটে ধরো তখন কিছু না, আর আমরা সিগারেট খেলেই গন্ধ লাগে?” এই বাণীর সাথে উপরি পাওনা চোখ রাঙানি আর মার মুখী অঙ্গ ভঙ্গি।

ভালো লাগলে শেয়ার করবেন
Avatar
Written by
সঞ্জয় হুমানিয়া
Join the discussion

Please note

This is a widgetized sidebar area and you can place any widget here, as you would with the classic WordPress sidebar.