কেন রাজ কর্মচারীরা ভদ্র ভাবে কথা বলে না?

সামাজিক মিডিয়া শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsAppEmailLinkedIn

কেন সরকারি বা আধা সরকারি আপিসের কর্মচারীরা ভদ্র ভাবে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে না ? ব্যাংক থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ আপিস, ফুড সাপ্লাই থেকে শুরু করে গ্যাস এর আপিস, অথবা কোর্ট থেকে শুরু করে BLR আপিস, আপনি যেখানেই যান না কেন, চোখ রাঙানি আর দাঁত খিঁচিয়ে ছাড়া আপনি কোন প্রশ্নের উত্তর পাবেন না। নিজের টাকা আপনি ব্যাংকে রাখতে যাবেন? ১০০ বার আগে ভেবে নিন। পদে পদে আপনাকে হেনস্থা হতে হবে। নিজের টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ থেকে ২ বার যদি আপনি ভুল করে ব্যাংক কর্মচারী কে কোনো কথা জিজ্ঞাসা করে ফেলেন, আপনি যেন মহা পাপ করে ফেলেছেন। মেজাজ, চোখ রাঙানি আর উপরি পাওনা হিসাবে দাঁত খেঁচানী সহ একটা অপ্রাসঙ্গিক উত্তর পাবেন। আপনার মনে হতেই হবে যে আপনি সত্যি ভয়ানক একটা অপরাধ করে ফেলেছেন এবং তার কোনো ক্ষমা নেই। বেশিরভাগ মানুষ আমরা ভেজা বেড়ালের মতো মেউ মেউ করে লেজ গুটিয়ে ফিরে আসি। লিংক নেই, সই মিলছে না, ব্রেক এর পরে আসুন, বড় সাহেব নেই, বললাম তো হবে না, একবার বললে শুনতে পান না, কাল আসুন এ সব হচ্ছে কমন বুলি ব্যাংক কর্মচকরীদের।

এতো শুধু গেল ব্যাংকের কথা। বিদ্যুৎ আপিসে আবার অন্য নিয়ম। দর্খস্ত লিখুন, সাদা কাগজে লিখে আনুন, বাংলা আর ইংলিশ দুটিতেই লিখে আনুন, বড় বাবু নেই, পরের সপ্তাহের আসুন, বাড়ির খাজনার রশিদ আনুন, বাজনার রশিদ আনুন, ইত্যাদি ইত্যাদি। আর সব শেষের বলা হবে, এ আপনার নামে কানেকশান হবে না, ঠাকুরদা কে নিয়ে আসুন। ঠাকুরদা যদি আপনার বেঁচে থাকে তবে আপনি বেঁচে গেলেন, তা না হলে আপনিও শেষ। সব শেষে বলা হবে, আপনার এই ফর্মে তো হবে না, ২১ নম্বর ফর্ম ভরে আনুন। ৭ কান্ড রামায়ণ পড়ার পরে বলা হবে যে রামায়ণ তো সিলেবাসে ছিল না, আপনাকে মহাভারত পড়তে হবে।
আপনি যেকোনো গভর্মেন্ট সার্ভেন্টদের আপিসে যাবেন, আপনার নিজের উপরের খুব রাগ হবেই। মনে হবে এত তাচ্ছিল্যের পরে কেন বেঁচে আছেন? আমি আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মচারির কাছ থেকে সুন্দর ব্যবহার পাইনি, আর আশাও করিনা। এই সব বড় বড় সাহেবদের মেজাজ সব সময় সপ্তম আকাশে থাকে। এই সব আপিসের যে চা দেয়, সেও বুক ফুলিয়ে জামার কলার উঁচিয়ে দাপিয়ে বেড়ায়।

আমার কি মনে হয় জানেন? এই সব মানুষরা নিজেদের কর্ম অক্ষমতা কে লুকানোর জন্যই এমন ব্যবহার করে আমাদের সাথে। তা নাহলে কি সামান্য ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে বসা ভদ্দর লোক টাকা ছুড়ে দিয়ে পানের পিক ফেলে দাঁত খিঁচিয়ে বলে খুচরো নেই টিকিট হবে না। আমি বলছিনা যে সবাই এমন, তবুও আপনি বুকে হাত রেখে বলুন তো, কোনো দিন কি আপনি এমন ব্যাবহার পাননি এদের কাছ থেকে?

আমরা একটা বয়ষ্ক গরীব রিক্সাওয়ালা কে তুই তুই করে কথা বলি, তবুও সে আমাদের সাথে মিষ্টি করে কথা বলে। আর এই সব সাহেবদের সাথে যখন আমরা আপনি আপনি করে কথা বলি, জবাবে পাই কটাক্ষ আর চোখ রাঙানি। আমার কোনো উদ্দেশ্য নেই কোনো সরকারি কর্মচারীকে আঘাত করার, শুধু এটুকু বলতে চাই, মিষ্টি ভাবেও তো কথা বলা যায়, কাজ করা যায়।

পূর্ববর্তী পোস্ট
পরবর্তী পোস্ট
সামাজিক মিডিয়া শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsAppEmailLinkedIn
আলোচনায় যোগ দিন

সঞ্জয় হুমানিয়া

Avatar

আর্কাইভ