December 3, 2020

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর

সামাজিক মিডিয়া শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsAppEmailLinkedIn

এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে আমার সাথে। কখনো সেই মুহূর্তেই বুঝেছি আবার কখনো বুঝতে লেগে গিয়েছে কয়েক বছর। একটি সর্বশক্তিমানের অস্তিত্ব আমি বহুবার অনুভব করেছি। ধর্মে যারা বিশ্বাসী তারা ঈশ্বর আল্লাহ ভগবান নামে ডাকে তাকে। বিজ্ঞান আবার তাকে প্রকৃতি নামে ডাকে। আর যারা আমার মতো না বিজ্ঞান জানে, না ধর্ম জানে তারা মনে মনে ভেবে নেয় যে ওই উপরে কেউ একজন আছে সর্বশক্তিমান।

কিছু কিছু এমন ঘটনা আমাদের সকলের জীবনে ঘটে। ঘটনা না ঘটা বা ঘটে যাওয়ার পরমুহূর্তে মনে হয় ভাগ্যিস এটা ঘটেছিলো বা এটা ঘটেনি। ঘটলে বা না ঘটলে হয়তো ভয়ংকর এক বিপদের সম্মুখীন হতাম। মনোবিজ্ঞানী হয়তো বলবে এটা মানুষের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়র অনুভূতি, যা একটি ঘটনাকে ঘোটতে বা না-ঘোটতে সাহায্য করেছে। গবেষকদের অনুমান প্রত্যেক মানুষের মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ধারণা বা পূর্বানুমানের বিষয়টি একটি জটিল রাসায়নিক কাজ করে, যা আমাদের অজানা কোন বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

এই সর্বশক্তিমান প্রকৃতি হোক বা সৃষ্টিকর্তা, আমার কাছে এটি অজানা। শুধু অনুভব করেছি, কিছু একটা আছে যা মানুষের অজানা। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনা পরপর সাজিয়ে তুলে ধরবো আপনাদের সামনে। আপনারই বিচার করবেন। ২০১৮ সালের শেষের দিকে বেঙ্গালোরের ভাড়ার ফ্লাট ছেড়ে আমাকে পেয়িং-গেস্ট হিসাবে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো অন্যত্র। দুই পরিচিত আমরা ভাড়ার ফ্লাটটি তে থাকতাম। হঠাৎ তাকে কলকাতায় পাকাপাকি ভাবে যেতে হয়, আর ফলস্বরূপ আমাকে যেতে হয় পেয়িং-গেস্টে হাউসে। সস্তার পেয়িং-গেস্টে হাউসে ছোট্ট একটি ঘরে মানিয়ে গুছিয়ে তিনজন। এদিকে একটি 1BHK ফ্লাটে হাত পা ছড়িয়ে থাকতাম আমার দুজন।

সবকিছু ঠিকঠাক চলছিলো, কিন্তু এই পাঁচটি ঘটনা ঘটে গেলো কারণ ছাড়াই।
১) ২০২০ এর ফেব্রুয়ারী মাসে পেয়িং-গেস্টে ছেড়ে আবার সেই একই 1BHK তে ফিরে এলাম। এবার ফ্লাট সঙ্গী আমার ছোট ভাই। সদ্য কয়েক মাস আগে বেঙ্গালোরে এসেছে।
২) মার্চ মাসের প্রথম দিকে বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন বন্ধ করে LPG গ্যাস নিয়েছিলাম কোন কারণ ছাড়াই।
৩) সেই একই সময়ে প্রয়োজন না থাকলেও WiFi সহ Broadband ইন্টারনেট নিয়েছিলাম নিজেদের ব্যাবহারের জন্য।
৪) মার্চের মাঝামাঝি প্রয়োজন ছাড়াই চেয়ার টেবিল কিনেছিলাম ঘরের জন্য।
৫) এপ্রিলের মাঝামাজি ঘরে জলের ফিল্টার লাগিয়েছিলাম অতিরিক্ত টাকা খরচ করে।

উপরের প্রত্যেকটি কাজ আমি বিনা কারনে করেছিলাম, কিন্তু সব কয়টির প্রয়োজন কয়েকদিনর মধ্যেই হয়েছিলো। প্রথমে ধরা যাক ফ্লাট ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারটা। কম খরচায় বেস চলছিল পেয়িং-গেস্টে হাউস। তবুও কোন কারণ ছাড়াই ফ্লাট ভাড়া নিয়েছিলাম। আমরা পেয়িং-গেস্টে হাউস ছেড়ে চলে আসার পরপরই বন্ধ হয়ে যায় পেয়িং-গেস্টে হাউস। কারণ করোনা ভাইরাসের আগমন। এই সময় প্রচুর মানুষ অসুবিধায় পড়েছিলো। যদি আমার ফ্লাট না নিতাম, হয়তো আমারও সেই একই ভোগান্তির সম্মুখীন হতাম।

বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন বন্ধ করে LPG গ্যাস ব্যাবহার শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই এলাকায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য power cut হতে শুরু করলো। কিন্তু যতদিন বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন ব্যাবহার করে রান্না করছিলাম কোন সমস্যা ছিল না। কেন হঠাৎ LPG গ্যাস নিয়েছিলাম আজও আমার কাছে অন্ধকার। আহলে কি আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়র অনুভূতির ফলে এই কাজ দুটি করেছিলাম? নাকি প্রকৃতি তার নিয়ম মেনে আমাকে দিয়ে করিয়েছে? আবার এটাও তো হতে পারে, ঈশ্বর আল্লাহ ভগবান আমাকে সঠিক পথে চালিতো করেছেন। আমি জানি না, আমার কাছে উত্তর নেই।

চমক এখনো শেষ হয়নি। ১৭ই মার্চ আমাদের আপিস work from home এর নির্দেশ দিলো। বেঙ্গালোরে তখন করোনা তার থাবা বসিয়েছে। ৯ ঘণ্টা ল্যাপটপে কাজ করার জন্য প্রয়োজন broadband ইন্টারনেট সংযোগ আর টেবিল চেয়ার। যা আমি আগেই কিনে রেখেছিলাম যখন work from home এর ব্যাপারটা আমার মাথায়ই ছিলো না। এটাকে তাহলে কি বলবো? কাকতালীয়?

প্রথম দফা lockdown চলছে তখন। আমরা জলের ২০ লিটারের ক্যানের জল খাই। কখনো জলের ATM থেকে নিজেরা জল ভরে আনি আবার কখনো ঘরের নিচের দোকান থেকে কিনে আনি। বেঙ্গালোরে জলের ফিল্টার ভাড়া দিচ্ছে নতুন এক startup কোম্পানি, খুবি কম খরচে। সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দেখে ফর্ম ফিলাপ করেছিলাম। দ্বিতীয় দিনে ফোন এলো, আর ২ সপ্তাহের মধ্যে লাগিয়ে দেবে বলল। ২ সপ্তাহের সময় নেওয়ার কারণ lockdown. প্রথম দফা lockdown শেষ হওয়ার আগেই আবার দ্বিতীয় দফা শুরু হয়ে গেলো। তখনও আমরা সেই ক্যানের জলেই খাচ্ছই, জল নিয়ে কোন অসুবিধা নেই। ২৩/০৪/২০২০ তারিকে জলের ফিল্টার দিয়ে গেলো, ২৪/০৪/২০২০ তারিখে installation করে দিয়ে গেলো। আজ ২৫/০৪/২০২০ এবং সন্ধ্যায় একটা ঘটনা আবার আমাকে চমকে দিলো। আজ থেকে আমাদের এলাকায় সব কিছু বন্ধ হয়ে গেলো। জলের ATM বন্ধও, নিচের জলের দোকানদার দোকান খুলছে না।

শেষ চমক আজ পেলাম। আমাদের উপরের তলায় পরিচিত এক ছোট পরিবার থাকে। তারাও ক্যানের জল আনিয়ে খেতেন। ফোন করলেই তিন তলায় ঘরে এনে দিতো জলের ক্যান। কিন্তু আজ থেকে সে পরিষেবা বন্ধঅনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। সন্ধ্যায় যখন উপর তলার কর্ত্রী এসে বলল ক্যানের জলের সরবরহ বন্ধ, এবং এই কয়দিন আমাদের ফিল্টারের জলই ভরসা তখন এই সব ঘটনা একের পর এক মনে এলো। এই সব কয়টি ঘটনা কি কাকতালীয়? নাকি মানুষের মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ধারণা বা পূর্বানুমানের বিষয় নিয়ে একটি জটিল রাসায়নিক কাজ?

পূর্ববর্তী পোস্ট
পরবর্তী পোস্ট
সামাজিক মিডিয়া শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsAppEmailLinkedIn
আলোচনায় যোগ দিন

সঞ্জয় হুমানিয়া

Avatar

আর্কাইভ