ছোটবেলা থেকে এখনো পর্যন্ত কোনোদিন নতুন চটি জুতো পরে ঈদের নামাজ পড়তে যায়নি, শুধু চুরি হয়ে যাবে বলে। প্রতিবার গায়ে সুন্দর পাঞ্জাবী, পায়ে সুন্দর পাজামা আর চারপাশ আতরের সুগন্ধ ছড়িয়ে পায়ে পুরোনো ছেড়া হাওয়াই চটি গলিয়ে নামাজ পড়তে গিয়েছি বছরের পর বছর।

মসজিদ থেকে নাকি চটি জুতো চুরি হয়ে যায়। কোনো এক ইমাম সাহেব বলেছিলেন, ” মসজিদ থেকে চটি চুরি হয়ে গেল কষ্ট বা দুঃখ পাবেন না, ভাববেন হয়তো কোন ব্যক্তির ওটা খুব প্রয়োজন ছিল তাই নিয়ে গিয়েছে”।

তবে এবছর এক নতুন চালাকি শিখেছি। ব্যাঙ্গালোর থেকে লেপক্ষী গিয়েছিলাম গত মাসে। সঙ্গে দুজন তেলুগু বন্ধু। মন্দিরে প্রবেশের আগে জুতো বাইরে খুলে রাখতে হয়। আমি নিষ্পাপ ভদ্র বাঙালী, আমি ভক্তিভরে মন্দিরের বাইরে জুতো খুলে রেখে মন্দিরে প্রবেশ করলাম। মন্দির দর্শন করে যখন বাইরে এলাম, খেয়াল করলাম আমার জুতো জোড়া নির্দিষ্ট স্থানে আছে কিন্তু দুই তেলুগু বন্ধুর এক এক পাটি জুতো পড়ে আছে, অন্য পাটি উধাও। আমার বুকটা ধড়াস করে উঠলো, এবার কি হবে? ওদের জুতো তো চুরি হয়ে গেছে!!

নিজের জুতো পরে নিয়ে আমি কৌতুহলী দৃষ্টি নিয়ে মন্দিরের সামনেই গাছের নিচে বসে ছিলাম। ওরা দুজন মন্দির থেকে বাইরে এলেই আমি এক মুখ উত্তেজনা নিয়ে ওদেরকে দুঃখের খবরটি দিলাম। আমার মুখ দেখে ও কথা শুনে ওরা খেঁকখেঁক করে হাসলো।

পরে বুঝেছিলাম মন্দির বা মসজিদের বাইরে থেকে ওদের রাজ্যেও জুতো চুরি হয়। পার্থক্য শুধু এটাই যে ওরা এই সামান্য সমস্যার সমাধান খুব সাধারণ ভাবে ভেবে ফেলেছিলো। অনেক তেলুগুরা মন্দির বা মসজিদের বাইরে জুতো খুলে এক পাটি এক যায়গায় ও অন্য পাটি অন্য যায়গায় রেখে দেয়। এতে তাড়াহুড়োর করে কেউ জুতো চুরি করতে পারে না, এবং এই চালাকী সত্যি কাজ দেয়। ওরা এই চালাকি ছোটবেলা থেকেই নাকি জানে, এবং এখনো কাজ দিচ্ছে !!😊

সঞ্জয় হুমানিয়া
ব্যাঙ্গালোর, ১১/০৩/২০২২

Facebook Comments Box