প্রত্যেকের জীবন এক একটি উপন্যাস, প্রথম পাতায় জন্মের শেষ পাতায় মৃত্যু!
© 2011-2018 SanjayHumania.com

চড়ুইগাছি (গাইঘাটা) ঘূর্ণিঝড়

Share:

এই সেই বিখ্যাত গ্রাম, যেখানে ১৯৮৩ সালের  ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল। দিনটি ছিল ১৯৮৩ সালের ১২ এপ্রিল মঙ্গলবার (২৮শে চৈত্র ১৩৮৯), এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় তাণ্ডব করেছিল উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার অন্তরগত চড়ুইগাছি নামক একটি ছোট্ট গ্রামে। যদিও খাবরের কাগজের শিরোনামে এসেছিল গাইঘাটার নাম। পুরনো মানুষ অনেকেই জানেন আমাদের গ্রামের নাম, তবে আজকালকার নতুন মানুষ এ সব ঘটনা শোনেনি। সে যুগে ক্যামেরা বা সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না, তাই ছবি আর তথ্য সংরক্ষণ বা প্রচার হয়নি। মুখে মুখে যা ছড়িয়েছিল বা রটেছিল।

ঘটনাটি ঘটেছিলো আমার জন্মের আগে, যা কিছু আমি লিখছি সবই আমার ঠাকুমা, বাবা, মা ও কাকার কাছে গল্প শোনা। ইন্টারনেট তন্নতন্ন করে খুজে আমি বিশেষ কিছু পাইনি। কেবল কয়েকটি সরকারি নথিপত্রে উল্লেখ আছে যা, কিন্তু বাস্তবটা ছিল আরও কঠিন। সন্ধ্যার সময় ১৯৮৩ সালের ১২ এপ্রিল মঙ্গলবার (২৮শে চৈত্র ১৩৮৯) হঠাৎ শোনা যায় শো-শো শব্দ এবং মুহূর্তে মধ্যে গ্রামের অর্ধেক অংশ তছনছ হয়ে গেলো। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর কালো ছায়া ঢেকে দেয় চড়ুইগাছি গ্রামের উত্তর পাড়ায়। সরকারি সুত্রে ২৮/৩০ জন মানুষ নিহত এবং ৫০০+ আহত হয়েছিলো, কিন্তু বাস্তবে সংখ্যা আরও বেশি ছিল। টর্নেডোর নাম দেওয়া হয়েছিলো “Gaighata Tornado of 12 April 1983” এবং “north24parganas.gov.in” ওয়েবসাইটে এটিকে 1983 Tornado at Gaighata Development Block বলা হয়েছে। একটি রিসার্চ জার্নালে অনুপম সাহা (Anupam Saha), বি কে দে (B.K De) এবং এস কে সরকার (S.K Sarkar), এই ঘোটনাকে Spectral Characteristics of the Gaighata Tornado of 12 Apr. 1983, issue date Jun-1984, CSIR-NISCAIR এ  উল্লেখ করেছেন। এস সি ভট্টাচার্যের লেখা বই Land and People of Indian States and Union Territories তে শুধু মাত্র দুই লাইন লেখা আছে। এই বিষয়ে গ্রামের পুরনো মানুষের কাছে কিছু প্রচলিত ঘটনা শুনেছিলাম, কয়েকটা তুলে ধরলাম।

১) ঘূর্ণি ঝড়ের শেষে দেখা গিয়েছিল নারকেল গাছে তীরের মত বেধে আছে ধান ঝাড়া কুলো।
২) পুকুরের সব জল মাছ শুদ্ধ ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে অন্য ডাঙ্গা জমিতে ফেলে দিয়েছিল
৩) ধানের গোলা উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে অন্য জায়গায় বসানো, সমস্ত ধান চারিদিকে ছড়িয়ে।
৪) ঘরের মাটির দেয়াল চাপা পড়ে থাকা মৃত দেহ, সঙ্গে ভাতের থালা।
৫) উপড়ে যাওয়া বড় বড় গাছ ইত্যাদি, ছড়িয়ে থাকা টালির চাল, ঘরের জিনিশপত্র।
এমন অনেক গল্প এখনো গ্রামের লোকের মুখে মুখে শুনতে পাওয়া যায়।

[fb_pe url=”https://www.facebook.com/SanjayHumania/posts/134776576636493″ bottom=”30″]
Share:
Written by
Sanjay Humania
Join the discussion

Sanjay Humania

আমার নিঃশব্দ কল্পনায় দৃশ্যমান প্রতিচ্ছবি, আমার জীবনের স্মৃতি, ঘটনা ও আমার চারপাশের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে লেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি মানুষেরই ঘন কালো মেঘে ডাকা কিছু মুহূর্ত থাকে, থাকে অনেক প্রিয় মুহূর্ত এবং একান্তই নিজস্ব কিছু ভাবনা, স্বপ্ন। প্রিয় মুহূর্ত গুলো ফিরে ফিরে আসুক, মেঘে ডাকা মুহূর্ত গুলো বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ুক। একান্ত নিজস্ব ভাবনা গুলো একদিন জীবন্ত হয়ে উঠবে সেই প্রতীক্ষাই থাকি।
– Sanjay Humania (সঞ্জয় হূমানিয়া)