বাঙালিই বাঙালির বড় শত্রু

সামাজিক মিডিয়া শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsAppEmailLinkedInGoogle+
এক দিনে দুই চমক। প্রথম ঘটনা, ব্যাঙ্গালোরের একটি বাঙালি খাবারের হোটেল, নাম প্রকাশে আমি অনিচ্ছুক। গতকাল বিকালে দিনদয়াল পোরটা (formerly known as Moghlai Porota) খেতে ইচ্ছে হয়েছিলো। আমি আমার nearest বাংলা হোটেলে পৌঁছে গেলাম। হোটেলের সামনে পরোটা ভাজা হয়, আমি ঢোকার সময় বাঙালি বাবুর্চি কে

“একটা মোগলাই পরোটা”

বলে ভিতরে গিয়ে বসলাম। বসার পরে বাইরে থেকে কানে আওয়াজ এলো,

“egg না chiken?”

আমি ঘাড় ঘুরিয়ে উত্তর দিলাম,

“ডিমের”

ব্যাস, তার পর নীরবতা। প্রায় ২০ মিনিট পরে হোটেলের এক কর্মচারী একটা খাবারের পার্সেল আমার টেবিলে এনে দিলো। দেখেই মাথাটা গরম হয়ে গেলো। আমি অতি নম্র ভাবে বললাম,

“এটা একটা প্লেটে দেওয়া যাবে, আমি এখানে খাবো”

টমেটোর মত মুখওয়ালা হোটেলের মালিক cash এ বসে ছিল, তিনি বললেন

“এখানে খাবে সেটা আগে বলবে তো?”

এ কথা শুনে আমার মেজাজ আরও বিগড়ে গেলো। তবুও আপ্রাণ চেষ্টা করে যতটা সম্ভব গলা নামিয়ে বললাম,

“পার্সেল নিয়ে যাবো সেটাও তো বলিনি”

এই সব কথার মাঝে বাবুর্চি স্বয়ং এসে বলল

“দুটো মোগলাই কি এখানেই খাবেন”?

মেজাজ আরও বিগড়ে গেলো, এবার তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললাম,

“একটা ডিম মোগলাই বললাম তো!!”

এবার হোটেলের মালিক আর বাবুর্চি একে অপরের দিকে খটমট করে দেখছে। বাবুর্চি কথা না বাড়িয়ে পার্সেল নিয়ে তার থেকে একটা পরোটা বার করে একটা প্লেটে রেখে আমাকে টেবিলে দিয়ে গেলো। আমি ভাবলাম সব নাটক শেষ, কিন্তু বন্ধু পিকচার আভি বাকি হে মেরে দোস্ত। মিনিট ১৫/২০ বসে বসে পরোটা খেলাম। মন্থর গতিতে হাত মুখ ধুয়ে ক্যাশ  কাউন্টারের সামনে এলাম দাম দিতে। আমি জানি  দিনদয়াল পোরটা (formerly known as Moghlai Porota) লকডাউনের আগে ৪০ টাকা ছিলো, আর এখন লকডাউনের পরে ৫০ টাকা হয়েছে। তবুও কি মন হোল জিজ্ঞাসা করলাম,

“আমার কত হয়েছে?”

চিটিংবাজ বাঙালি হোটেল মালিক অন্যদিকে দিকে তাকিয়ে হাতে কি একটা কাজ করতে করতে একটা ব্যস্ততার ভান করে বলল,

“৬০ টাকা”

আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে দ্বিতীয় পরোটার কাঁচামালের দামটা ধরে নিলো। আমি স্বাভাবিক ভাবে বললাম,

“আগে ৪০ ছিলো, লকডাউনের পরে ৫০ ছিলো, আর আজ ৬০!!”

কুচুটে বাঙালি অন্য দিকে তাকিয়ে এমন ভাব করছে যে সে আমার কথা শুনতেই পাইনি। আমি UPI এ পেমেন্ট করে চলে এলাম।

দ্বিতীয় ঘটনা। দিনে ২/১ বার রাস্তার ওপাসের দোকানে কফি খাই। দোকানদার স্থানীয়,  লোকটি জানে আমি কেমন কফি পছন্দ করি। একটু কড়া অল্প মিষ্টি কফি। বহুদিন একই দোকানে গেলে কিছু আর বলতে হয় না। উনি নিজে থেকে কফি বানিয়ে নিয়ে আসে। লকডাউনের আগে যা দাম ছিলো, পরেও তাই আছে সেই ৮ টাকা। আমি রোজ কফি পান করে UPI এ পেমেন্ট করে চলে আসি। আগে ফোন দেখিয়ে আসতাম, কিন্তু বেশ কিছুদিন paytm একটি sound system বসিয়ে দিয়ে গিয়েছে, পেমেন্ট করলেই এক যান্ত্রিক মহিলা কণ্ঠ জানিয়ে দেয় যে এত টাকা পেমেন্ট হয়েছে। এখন আর পেমেন্ট করে ফোন দেখাতে হয় না। কাল সকালে কফি খেয়ে UPI না করে একটি কুড়ি টাকার নোট দিয়েছিলাম। কফিওয়ালা স্বাভাবিক ভাবে ১০ টাকা ফেরৎ দিলেন। আমি ভাবলাম হয়তো ২ টাকা নেই তাই দিলো না। আমি কিছু না বলে চলে এলাম। সন্ধায় আবার কফি খেতে গেলাম। কফি শেষ করে হঠাৎ আমার মনে এলো সকালের ২ টাকার কথা। ইচ্ছা করেই আমি জিজ্ঞাসা করলাম,

“ভাইয়া কিতনা হুয়া?”

উত্তরে বললেন ১০ টাকা। না থেমেই উনি বললেন ১ মাসের উপরে হয়ে গিয়েছে উনি কফির দাম বাড়িয়েছে। কারন আগে কাচের গ্লাসে দিতেন, এখন কাগজের কাপে দিচ্ছেন তাই। আমি শুনে অবাক!! গত ১ মাস ধরে চুপচাপ ওনাকে না জিজ্ঞাসা করে আমি ৮ টাকা পেমেন্ট করে চলে আসি। উনিও কনদিন কিছু বলেনি, আমিও জিজ্ঞাসা করিনি। এই কথাটা বলতেই দোকানদার হেসে বললেন, “ওহ ঠিক হ্যাই”।

এতে আরও একবার প্রমান হয়ে গেলো, বাঙালিই বাঙালির বড় শত্রু।

Facebook comments
Previous Post
Next Post
সামাজিক মিডিয়া শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsAppEmailLinkedInGoogle+
আলোচনায় যোগ দিন

আর্কাইভ

Sanjay Humania