আমার এই ছয় আঙ্গুলের কপালে যে কত কি আছে তা আমিও ঠিক জানি না। তবে দুঃখ-আনন্দ, বেগ-আবেগ,  হার-জিত, জয়-পরাজয় ইত্যাদি ইত্যাদি তো আছেই। এগুলো হয়তো আপনারা আমার সামনে দাড়িয়ে আমার কপালে দিকে তাকিয়ে দেখতে পাবেন না। যেটা দেখতে পাবেন তা হলো  দুটি চিহ্ন। একটি চিকেন পক্সের গর্ত, অন্যটি একটি ছোট মাংস পিন্ড। এই দুটোই আগে ছিলো না। সেবার কলেজে পড়ার সময় পক্স হয়েছিল, আর সেই সময় আমার কপালও ফুটো হয়ে গেলো। তারপর থেকে ফুটো কপাল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। যখনই নিজেকে আয়নার দেখতাম তখনই মনে মনে ভাবতাম, “ইস, পক্স! আমার কপালের ওই টুকু মাংস খেয়ে কি মজা পেলি?”

কয়েক বছর আরো কেটে গেলো। আয়নায় নিজেকে দেখলেই ওই কথা মনে হয়। একদিন হঠাৎ খেয়াল করলাম, পক্স এর গর্তের পাশে একটা ব্রণ এর মত কি একটা হয়েছে। আমি বিশেষ পাত্তা তাত্মা দিলাম না ব্রণ কে। কয়েক মাসে খেয়াল করলাম ওটা পার্মানেন্ট হয়ে গেছে। কি অপদ!! গর্তের পাশে একটা ঢিবি!! মহা মুস্কিল।

কয়েক বছর আরো কেটে গেল। এখন আয়না নিজেকে কম আর গর্ত ও ঢিবি কে দেখি বেশি। হঠাৎ একদি একটা চিন্তা মাথায় এলো। ওই মাংসের ঢিবি আর গর্ত কিন্তু ঠিক এক সাইজের। তবে কি আমার হাহুতাশে পক্স বিরক্ত হয়ে ওই গর্তের মাংস ফিরিয়ে দিলো? ফিরিয়েই যখন দিলি, গর্তে দিলি না কেন রে হতভাগা? গর্তের পাশে মাংসের ঢিবি দিয়ে কি মজা পেলি? তারপর ভাবলাম, হয়তো পক্স এর বয়স হয়েছে, হাত কাঁপে! মাংস ফেরৎ দিতে এসে কাঁপাকাঁপা হাতে গর্তে মাংস ফেরৎ দিতে গিয়ে ভুল করে পাশে বসিয়ে ফেলেছে।

সঞ্জয় হুমানিয়া | বেঙ্গালুরু, ভারত
সোমবার ৪ই আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ – ১৯সে জুলাই ২০২২ খ্রিস্টাব্দ।

★ আমার লেখায় অজস্র বানান ভুল থেকে যায়, পাঠকের চোখে পড়লে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ★

Facebook Comments Box