১ বছর আগের ছবি (২০১৭), ঝুলন্ত পাথর, পাথরের উপরে আমাদের ৬ জনের একজন

আভালাবেত্তা পাহাড়, কর্নাটক (Avalabetta Hilltop)

If you Like it,Share it

বেঙ্গালুরু থেকে নন্দী হিলস বেড়িয়ে যদি ঘরে ফিরতে না ইচ্ছা করে, তবে আপনি আভালাবেত্তা পাহাড় যেতে পারেন। আমরা ৬ জন যাত্রা শুরু করেছিলাম বেঙ্গালুরু থেকে। নন্দী হিলস দেখার পরে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল আভালাবেত্তা পাহাড়। আমাদের প্রধান আকর্ষণ ছিল একটুরো পাথর খণ্ড, যেটা ঝুলে আছে আভালাবেত্তা পাহাড়ের মাথা থেকে। গত বছর আমাদের এই ৬ সঙ্গীর একজন সেখানে গিয়েছিলো। এই jঝুলন্ত পাথরটির উপরে একটা ছবিও তুলেছিল সে, আর সেই ছবি দেখার পর থেকে আমাদেও সেই একই ইচ্ছা হয়েছিলো।

কর্নাটকে আভালাবেত্তা দুর্গ বা পাহাড়। কর্নাটকে বেঙ্গালুরুর মতো শহর ছেড়ে এই বেড়ানো হবে একেবারে অন্য রকমের। এখানে পাহাড়ের চুড়োয় উঠতে হবে। কিন্তু সেই চুড়োয় রয়েছে চমক। আভালাবেত্তা পাহাড়ে উঠতে গেলে আপনার অবশ্যই থাকতে হবে নিজের গাড়ি বা বাইক। কারন এই পাহাড় পর্যন্ত যাওয়ার জন্য কোন বাস বা ট্রেন আপনি পাবেন না। নন্দী হিলস থেকে নেমে আমরা খাওয়া-দাওয়া করে একটু বিশ্রম নিয়ে নিলাম। আবার যেতে হবে ৬১ কিলোমিটার। গুগোল ম্যাপ বলেছিল, “দুটি রাস্তা আছে, একটি ৪৯ কিলোমিটার আর অন্যটি ৬১ কিলোমিটার। ৪৯km পথের রাস্তা খারাপ সময় লাগবে বেশী, আর ৬১km একটু ঘুর হলেও রাস্তা ভালো, সময় লাগবে কম”। আমরা স্থির করলাম ৬১km পথেই যাত্রা করবো, এই পথে আমরা NH44 পাবো অনেকটাই।
নন্দী হিলস থেকে বেড়িয়ে আমরা এলাম Nelamangala – Chikkaballapura, এখান থেকে এসেছিলাম Bashweshwara Temple, Rani Cross(Nandi Cross)। এবার এখান থেকে ধরলাম NH44, বাইক ছুটল হুহু করে। মাঝে রাস্তায় ইস্কুটিতে তেল নিতে হয়েছিলো। রাস্তার দুই ধারে শুধু আঙুরের খেত আর দু একটা বাড়ি। NH44 ছাড়লাম আমরা Nandanaganahalli, Chikkaballapura তে এসে। এখান থেকে আভালাবেত্তা পাহাড় পর্যন্ত রাস্তা ছিল ভালো খারাপ মিশিয়ে। এই রাস্তায় পড়বে একটা জঙ্গল ও কয়েকটি ছোট ছোট গ্রাম। গ্রামের মানুষরাই আমাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছে বারবার। আভালাবেত্তা দুর্গ বা পাহাড়ের নিচে এসে আমরা জানতে পারলাম যে, পাহাড়ের চুড়ায় উঠতে আমাদের যেতে হবে আরও ৩ কিলোমিটার রাস্তা, যা চলেছে পাহাড়ের গায়ে হেলেদুলে। এই রাস্তা গাড়িতে যাওয়া সম্ভব বা আপনি হেটেও যেতে পারেন। আমরা লক্ষ্য করলাম, প্রায় সকলেই হেটে উঠছে পাহাড়ে। আমরাও তাই করলাম, গাড়ি পাহাড়ের নিচের পার্কইনে রেখে শুরু করলাম পাহাড় চড়া।

গোটা রাস্তা আমার চড়লাম ৪ ধাপে। আমারা সকলে খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। ৩ কিলোমিটার রাস্তা হাঁটা কোন বড় কথা নয়, তবে যদি এই ৩ কিলোমিটার চড়াই পথ হয় তবে খুবই কষ্টকর। রাস্তার বাকেবাকে কয়েকটি মন্দির দেখতে পাবেন আপনি, আর পাবেন বিশ্রাম নেওয়ার যায়গা। এই মন্দিরে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিতে পারেন। পাহাড়ে উঠেই প্রথমেই চোখে পড়বে পাথরের গায়ে মন্দিরের বার্তা। এই মন্দির পেরিয়ে যেতে হবে পাহাড়চুড়োয়। মন্দির পেরিয়ে একটু উপরে গিয়ে নীচের দিকে তাকান চোখে পড়বে অনবদ্য দৃশ্য। আপনাকে অবশ্যই সাহসী হতে হবে। নইলে এখানে আসার কোনও অর্থ নেই।

আমরা পাহাড়ের নিচে থেকে যখন হাঁটা শুরু করেছিলাম তখন দুপুর ১:২৫, আর যখন পাহাড়ের মাথায় পৌঁছলাম তখন দুপুর ৩:০০ বাজে। শরীরে ক্লান্তি থাকলেও আমাদের ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনে ছিল। ভ্রমণ নেশা এক ভয়ানক নেশা। এখানে পাহাড়ের চুড়োয় উঠলে পাবেন ছোট্ট একটি হ্রদ, আর এই হ্রদ থেকে এক পা এগোলেই ঝুলন্ত পাথর। পাহাড়ের বর্ধিত অংশ এখানে ঝুলে রয়েছে। যে পাথরে দাড়িয়ে বা বসে ছবি তোলার আশা নিয়ে আমরা এসেছিলাম।

নিয়তির কি নির্মম পরিহাস! আমরা ঝুলন্ত পাথর কাছে পৌঁছে দেখি এক পুলিশ পাহারা দিচ্ছে এই ঝুলন্ত পাথর আর মোটা মোটা লোহার খাঁচা তৈরি হয়েছে সেই ঝুলন্ত পাথরের চার পাশে। এই লোহার বেড়া পার হয়ে যাওয়া নিষেধ। পুলিশ বলল, ৬ মাস আগে পর্যন্ত খোলা ছিল এই ঝুলন্ত পাথর। ৬ মাস আগে কেউ একজন এই ঝুলন্ত পাথরের উপরে উঠে সেলফি নিতে গিয়ে নিচে পড়ে যায়, আর সেই থেকে এই পাহারা আর এই লোহার খাঁচা।

যাই হোক, অনেক কিছু দেখলাম, অনেক ছবি তুললাম, অনেক আনন্দ পেয়েছি। যখন পাহাড় থেকে নামার সময় এলো, আমরা সকলেই তখন ক্লান্ত। ৩ কিলোমিটার রাস্তা খুব সাবধানে নামতে হয়েছিলো। আমার দুই পা কাঁপছিল। আমি ভেবে ছিলাম হয়তো শুধু আমার পা কাঁপছে, কিন্তু যখন অন্যদের জিজ্ঞাসা করলাম, সকলেই এইকি কথা বলল। নিচে নেমে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার শুরু করেছিলাম যাত্রা, এবার আমাদের দিনের তৃতীয় উদ্দেশ্য, Dandiganahalli Dam.

আমার লেখায় মাঝে মধ্যেই অনেক বানান ভুল থেকে যায়। অনুরোধ করবো একটু মানিয়ে গুছিয়ে নিতে। সম্ভব হয়ে বানান ভুল ধরিয়ে দেবেন কমেন্ট করে।
If you Like it,Share it


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Sanjay Humania

Everyone's life is a story, it starts when you're born and continues until the end.

Facebook Page

Follow @Social Media
Recent Notes

ফেসবুকের অভিনন্দন পত্র

সত্যি নয়, অভিনয়

তোমার আমার স্বপ্ন

আনফ্রেন্ড অভিযান

মগজ ধোলাই

আমার জন্ম তারিখ রহস্য

দূর্গাপূজা, জল বেলুন আর পিস্তল

অভিযোগ করা বন্ধ করুন এবং মন খুলে বাঁচতে শুরু করুন

Notes Archives
Visitors Statistics
Sanjay Humania’s Notebook